শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
সোলায়মান সুমন:
মাতা-পিতা, ভাই-বোনসহ স্বজন ১৫টি বছর পার করছেন নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের নজরুল ইসলাম ফয়সাল। আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪ সালের এই দিনে এক মারাত্মক ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি তার পরিবারের ৬ সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে পৃথিবীতে একা হয়ে পড়েন। সেই থেকে শুরু হয় তার জীবনের একাকী পথচলা। জীবন সংগ্রামে একজন ১৫/১৬ বছরের বালক দিশেহারা হয়ে পড়েন। তার অসহায় জীবনে অবিভাবক বলতে তেমন কেউই ছিলেন না।তবুও তিনি থেমে থাকেন নি। মৃত বাবার রেখে যাওয়া ডেসটিনি ২০০০ লিঃ এর বিজনেস সেন্টারটি তাকে দেয়া হয় ডেসটিনির পক্ষ থেকে। সেই সময় তার পিতৃতুল্য ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ রফিকুল আমিন এবং একই কোম্পানির চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসাইন এগিয়ে আসেন নজরুল ইসলাম ফয়সালের পাশে। ভালোই কাটছিলো তার জীবন। ধীরে ধীরে জীবনের আলো ফিরে পাচ্ছিলেন। তিনি পিতার অভাব ভুলতে শুরু করেছিলেন এবং নিয়মিত আয় রোজগারও করছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ২০১২ সালে ডেসটিনির উপর বিভিন্ন অভিযোগ চাপিয়ে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে আবার ঝড় আসে ফয়সালের জীবনে।
দুরবস্থার মধ্যেও ডেসটিনির শীর্ষ কর্মকর্তাগণ ফয়সালের খবর রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ডেসটিনির পরিচালকরা আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর দিনে দিনে তাদের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় তিনি পুনরায় বাধাগ্রস্ত হন। এমনকি তার আয় রোজগারও একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিরা হাজতে থেকে থেকে বিভিন্ন শারিরীক সমস্যা নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এতে করে ফয়সালের জীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। আবারও দুর্বিষহ জীবনের দিকে ধাবিত হচ্ছে সে।
নজরুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, ‘এখন আর কেউ খবর রাখেনা আমার’! মাতাপিতা, ভাইবোন হারানোর পর অবিভাবক হিসেবে যাদের পেয়েছিলাম, তারাও এখন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমার খবর কে নেবে? তাই ফয়সাল তার মনের সকল আকুতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চান।
তিনি বলেন, আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীও অল্প বয়সে আপনজন হারিয়েছেন। তাই আপনজন হারানো মানুষের বেদনা তিনিই বুঝবেন। আমি আমাদের মাদার অব হিউম্যানিটি, বিশ্ব নন্দিত প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। আমি আমার সুন্দর জীবন ফিরে পেতে আপনার হস্তক্ষেপ চাই। একবার শুধু আপনার কাছে আমার মনের কথাগুলো খুলে বলতে চাই। কারণ আমি বিশ্বাস করি, এদেশে একমাত্র আপনিই আমার দুঃখ বুঝবেন। তাই আমি আমার নেতা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি কথাগুলো বলতে চাই।
সাংবাদিক ভাইবোনদের অনুরোধ করছি, আমার কথাগুলো মিডিয়ায় তুলে ধরে আমার পাশে থাকুন প্লিজ।
এভাবেই নিজের মনের আকুতি প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম ফয়সাল। আর কোন মানুষ যেন এভাবে একসঙ্গে পরিবার পরিজন হারিয়ে অসহায় জীবন কাটাতে না হয়, আজকের এই দিনে এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।
উল্লেখ্য, নজরুল ইসলাম ফয়সাল নিজের দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য বর্তমানে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সহায়তায় নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এবং আর আমিন ফাউন্ডেশন নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করছেন।